অবশেষে দেশের একমাত্র সরকারী টেলিফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড (বিটিটিবি) বিলুপ্ত হলো। এ প্রতিষ্ঠানটির নতুন নাম করা হয়েছে বাংলাদেশ টেলি-কমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। আর এরই সাথে দেশের ‘বাঙ্গি বনে আমি রাজা’ মার্কা টেলিফোন নিয়ন্ত্রকের কিছুটা হলেও করুণ মৃত্যু হল। নতুন কোম্পানি শুরুর প্রাক্কালে প্রতিষ্ঠানটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান তুলে ধরে জানায় যে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবার নিশ্চয়তা এবং ব্যবসায়িক সাফল্যের উদ্দেশ নিয়ে শতভাগ সরকারি মালিকানার এ কোম্পানি যাত্রা করছে। তবে আগামী অর্থ বছরেই কোম্পানির পুরো মালিকানা বেসরকারি পর্যায়ে ছেড়ে দেয়া হবে জানিয়েছে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ। এখানে উল্লেখ্য যে,বিটিসিএল-এর পাশাপাশি বিটিটিবি ভেঙ্গে সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) নামে আরো একটি কোম্পানি আজ থেকে যাত্রা করছে। তবে আলাদা কোম্পানি হলেও এটি বিটিসিএল-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসাবেই কাজ করবে জানিয়েছে বিটিসিএল। কেবলমাত্র পুরোনোকে আঁকড়ে ধরে থাকা যাদের পছন্দ সেই টিএন্ডটি বোর্ডের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা কর্মচারী ছাড়া সংশ্লিষ্ট সবাই সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইতোমধ্যেই।
কল ট্যারিফের ক্ষেত্রে বেশকিছু সুবিধা ঘোষণা করেছে বিটিসিএল। আজ থেকে এসকল সুবিধা কার্যকর হচ্ছে বলেই জানিয়েছে বিটিসিএল। আনন্দের খবর হচ্ছে বিটিটিবি’র ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লোকাল কলে মিনিটপ্রতি বিল প্রথা প্রবর্তন করা হয়েছে। যা এতদিন শুধুমাত্র টিএন্ডটি থেকে মোবাইল ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল। আজ থেকে সকল গ্রাহক পিক আওয়ারে প্রতি মিনিট ১৫ পয়সা এবং অফপিকে ১০ পয়সায় কথা বলতে পারবেন। তবে প্রাইভেট ল্যান্ডফোন অপারেটরে পিক এবং অফপিকে যথাক্রমে ৮০ পয়সা ও ৭০ পয়সায় কথা বলা যাবে। মোবাইলে পিক ও অফপিকে যথাক্রমে ১ টাকা ও ৭০ পয়সায় কথা বলা যাবে। পিক আওয়ার হচ্ছে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। আর অফপিক আওয়ার হচ্ছে রাত ১০টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত।
টেকটিউনস এর মাধ্যমে আমরা বিটিসিএলকে স্বাগত জানাই। আশা করছি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে বিটিসিএল অগ্রবর্তী ভুমিকা রাখবে। বিটিসিএল জনগণের কথা মাথায় রেখেই তাদের সার্ভিসসহ সকল ব্যবসায়িক কর্মকান্ড পরিচালনা করবে। উন্নত বিশ্বের সকল সুবিধা চাই বিটিসিএল এর সার্ভিসে। আর সেই সাথে ক্যাবল প্রযুক্তির অবসান ঘটিয়ে ওয়্যারলেস প্রযুক্তিতে অচিরেই পা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। একই সাথে প্রতিটি সংযোগের সাথে খুব স্বল্পমূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধাও থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের প্রত্যাশা নতুন এই প্রতিষ্ঠানে থাকবে না ডিমান্ড নোট নিয়ে বছরের পর বছর ধরে গ্রাহক ঘোরানোর হয়রানি বা সংযোগ পেতে টেবিলের ওপর-নিচ দিয়ে গ্রাহকের কষ্টের অর্জিত টাকার শ্রাদ্ধ হবে না অথবা যেখানে থাকবে না টিএন্ডটি লাইনম্যান নামক অত্যাচারী সেবাদানকারীর(!) চোখ রাঙানি বা জোর করে ঘুষ আদায়ের হুমকি।
প্রযুক্তিগত সেবা আর ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার মাঝে এগিয়ে যাক বিটিসিএল। মুছে যাক পুরোনো গ্লাণি, ঘুঁচে যাক যাবতীয় জরা, দূর্বার গতিতে এগিয়ে যাক সর্বোচ্চ সেবার প্রত্যয়ে, সাফল্যের চুড়ান্ত সীমায়।

This article has 0 comments
Post a Comment